আপনি কি জানেন পুরুষরাও পুরুষতান্ত্রিকতার শিকার হয়?

 

 

পুরুষতান্ত্রিকতার শিকর যে কেউ হতে পারেন। নারী বা পুরুষ লিঙ্গ নিয়ে এখানে কোন বিষয় না

 

  1. সমাজ যেমন মহিলাদের থেকে হাজারটা অমানবিক দাবি করে, ঠিক তেমন, পুরুষকেও নানা রকম স্টিরিওটাইপের খাঁচায় সাধারণীকরণের মাধ্যমে বন্দি করে রেখেছে। কারণ একটাই, পুরুষতান্ত্রিকতা।
  2. সমাজ মনে করে, পুরুষ মানুষ নয়, পুরুষ লৌহমানব, যার কোনো ব্যাথা নেই, জ্বালা যন্ত্রণা নেই, আবেগ নেই, আছে শুধু পুরুষত্ব নামক বস্তু। পুরুষসিংহ হতে গিয়ে, হাজার হাজার পুরুষ তাদের স্বপ্ন বিসর্জন দেয়। কারণ একটাই, পুরুষতান্ত্রিকতা।
  3. পুরুষদের জন্য আইন নেই, অন্তত ভারতবর্ষে তো নেই। ভারতীয় দন্ডবিধিও বোধহয় এখনো ওই পুরুষতান্ত্রিকতার জাল থেকে মুক্তি পায় নি। তাই তো এই দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় ফুটে ওঠে একটাই মন্ত্র — পুরুষ সবক্ষেত্রে অত্যাচারী, আর নারী সবক্ষেত্রে নির্যাতিতা। কারণ একটাই, পুরুষতান্ত্রিকতা।
  4. সংবিধান অনুচ্ছেদ ১৪-এ[1] যেমন সাম্যবাদের কথা দৃপ্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করেছে, ঠিক উল্টো দিকে, অনুচ্ছেদ ৫১A(e)[2] তে মৌলিক কর্তব্যের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে শুধুমাত্র ভারতীয় নারীদের সম্মান রক্ষার কথা বলেছে, পুরুষদের সম্মান রক্ষার কথা বলেনি। কারণ একটাই, পুরুষতান্ত্রিকতা।
  5. পুরুষদের উপর যৌন নির্যাতন প্রতিনিয়ত ঘটে[3], কিন্তু এক্ষেত্রে গবেষণার সংখ্যা খুব কম, কারণ সরকার-এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সেইভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। কারণ একটাই, পুরুষতান্ত্রিকতা
  6. একজন পুরুষ যদি তার উপর হওয়া ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা বা গৃহস্থ হিংসার কথা সাহস সঞ্চয় করে মুখ ফুটে বলে, তখন সমাজ তাকে ঠাট্টা করে বলে, তুমি কি সত্যিই পুরুষ? কারণ একটাই, পুরুষতান্ত্রিকতা।

পুরুষদের এই পুরুষতান্ত্রিকতার খাঁচায় বন্দি থাকার পিছনে পুরুষদের ভূমিকা কিন্তু কম নয়।

  • অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন পুরুষই আরেকজন পুরুষকে বলছে, “কাঁদিস না, আমরা পুরুষ। আমাদের চোখে জল মানায় না। আমরা কঠিন, আমরা কঠোর। আমরা পুরুষ!”
  • একজন পুরুষই আরেকজন পুরুষকে পরামর্শ দেয় যে মহিলা বা নারীদের সাহায্য নেওয়া মানেই ছোটো হয়ে যাওয়া। কারণ তারা পুরুষ। নারীর সাহায্য নেওয়া তাদের মানায় না
  • একজন পুরুষই আরেকজন পুরুষকে তার হেনস্থার কাহিনী নিয়ে অপমান ও ঠাট্টা করে।

পুরুষ ভুলেই যায়, যে সে নিজেও পুরুষতান্ত্রিকতার শিকার এবং এইসব কাজকর্মের দ্বারা সে এই খাঁচায় আরো বন্দি হয়ে যাচ্ছে।


পুরুষতান্ত্রিকতা একটা উঁচু ও দুর্গম প্রাচীরের মতন, যেটা আমাদের সমাজ খুব নির্মম ভাবে নির্মাণ করে। এটা উত্তীর্ণ হওয়া খুব কঠিন।

মানুষ এই পুরুষতান্ত্রিকতার প্রাচীর সেইদিনই উত্তীর্ণ হতে পারবে, যেদিন পুরুষতান্ত্রিকতার অজুহাতে পুরুষ ও নারী উভয়কে অত্যাচার করা বন্ধ হবে। এবং সেই ক্ষেত্রে, পুরুষ ও নারীকে প্রতিযোগী হয়ে নয়, পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক হিসেবেই একে অপরের পাশে সহানুভূতি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।

 

Previous ArticleNext Article

Most Popular Topics

Editor Picks